দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়, তারপর রাত নামে।
অনেক সময় আমাদের দিনগুলা বা রাত গুলো স্পেশাল হয়। স্পেশাল বলছি এ কারণে যে আমরা সেগুলোকে ছাড়তে চাই না। অনেকটা ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ এর মত।
ভার্সিটিতে পড়ার সময় মাঝে মাঝেই আমরা দেখি আড্ডা দিতে দিতে বন্ধু বান্ধবদের রাত গড়িয়ে যায়। তাদের গল্প থামে না। তাদের মনে হয়- এই রাত যদি দীর্ঘায়িত হত। তবুও সকাল হয়।
কিংবা পূর্ণিমা রাতের চাঁদের আলোয় গল্প করা যুগল। ফোনে কিংবা সামনা সামনি। তারাও চায় রাতটা দীর্ঘস্থায়ী হতে।
অনেকদিন পরে পরিবারের সব মানুষগুলো এক হওয়া বা কোন অনুষ্ঠানে আত্মীয় স্বজনের সমারোহ হওয়া। এই সময় বাড়ির অভিভাবকের মন ভরে যায় সবাইকে দেখে। তারও মনে হয় – ঈশ! এই কোলাহল যদি চিরস্থায়ী হত।
এরকম অনেক মধুর দিন বা রাত আমাদের জীবনে আসে। তারপর তা চলে যায়। সময়ের স্রোতের ধাক্কায় চলে যায় দুরে। স্থান পায় আমাদের স্মৃতিতে। অনেকদিন পর হঠাৎ কোন আড্ডার সময় সেগুলো তুলে আমরা আনন্দ পাই। কিংবা একাকীত্বের সময়টাতে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। ঈশ! কত সুন্দর ছিল সময়টা।
এই আনন্দের দিন-রাত গুলো চলে যায়। দুঃখের সময়গুলোও চলে যায়। স্মৃতির পাতায় নিভু নিভু করতে থাকে। এর মধ্যে পরিবেশ বদলে যায়। আনন্দের সময়টাতে অংশগ্রহণকারী দুই একজনও আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে থাকে।
এটাই বাস্তবতা। এই বাস্তবতার অর্ধেকটা আমরা উপলব্ধি করি। কিন্তু বাকি অর্ধেক – এই যে – যার দিকে আমরা অগ্রসর হচ্ছি সেটা আমাদের উপলব্ধিতে আসে না।
তাই তো আমাদের জীবনে রাত বাড়ে। হাজার বছরের পুরনো সেই রাত!
এই রাতের সাথে স্মৃতি বাড়ে। আর এই স্মৃতির সাথে আমার চূড়ান্ত লক্ষ্যের পাথেয় বাড়ছে কি?
—
الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
“তারাই ধৈর্যশীল যারা বিপদের সময় বলে আমরা তো আল্লাহরই এবং নিশ্চিতভাবে তারই দিকে ফিরে যাব।” সূরা আল-বাকারা। আয়াত ১৫৬