কোন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ বলে কিছু মানুষ আছে। একটা জিনিস তারা যেমন দেখেন, সাধারণ মানুষ তেমন দেখে না।
যেমন ডাক্তারদের কথাই ধরা যাক। একজন ডাক্তার মানে, সে মানুষের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলো জানে, কি ধরনের রোগ হতে পারে তার চিকিৎসা কি হতে পারে এগুলো যেমন জানে তেমনি নতুন কোন রোগের বা অনিয়মের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়াগুলো অনুমান করতে পারেন। তাইতো হাতুড়ে ডাক্তারের যে ঔষধ নির্দ্বিধায় দিয়ে দেন, ভালো একজন ডাক্তার সেভাবে চিকিৎসা করতে পারেন না। চারদিকে অ্যান্টিবায়োটিকের ছড়াছড়ি দেখে ডাক্তার আতঙ্কিত হন। সাধারণ মানুষ বা হাতুড়ে ডাক্তার সেভাবে হন না।
যখন একজন ছাত্র ডাক্তারি পড়া অবস্থায় আস্তে আস্তে জিনিস গুলো জানতে পারেন, যখন অনিয়মের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারে তখন সে খু্বই আতঙ্কিত হয়। একসময় গিয়ে জিনিসটা তার চোখে সয়ে যায়। তবুও সে বলতে থাকে তার রোগীদেরকে। তার চেষ্টা থাকে তার জায়গা থেকে যতখানি মানুষকে সচেতন করা যায়।
একইভাবে একজন ইঞ্জিনিয়ারের চোখে এরকম অনেক পোটেনশিয়াল হ্যাজার্ড ধরা পড়ে। গ্রামাঞ্চলে বা মফস্বলে বাড়ি বানানোর জন্য তারা মোটামুটি মিস্ত্রিকেই যথেষ্ট মনে করেন। দেখা গেল ভুলেও যদি ইঞ্জিনিয়ার এর কাছে যায় তবে তিনি যেরকম রিকমেন্ডেশন দেন তার থেকে মিস্ত্রির প্রাক্টিক্যাল এক্সপেরিয়েন্সকে তারা বেশি গুরুত্ব দেন। অথচ এমন কিছু ব্যাপার আছে যা ওই মিস্ত্রিদের চোখে ধরা পড়ে না।
আলেম উলামারা হল সমাজের রুহানি চিকিৎসক। শরীয়তের কোন জায়গা গুলোতে ব্যক্তি সমাজ এবং রাষ্ট্র ভুল পথে এগোচ্ছে সেগুলো তাদের চোখে অনেক বেশি পরিমাণে ধরা পড়ে। তারা এমন কিছু জিনিস দেখেন যেগুলো আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। অথচ কী ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর সমস্যার মধ্যে আছি আমরা, না জানার কারণে কত ভয়াবহ রকমের কাজ আমাদের দ্বারা হয়ে যাচ্ছে। যেমন তালাকের মাসআলা না জানার কারণে কত স্বামী স্ত্রীর তালাক হয়ে যাওয়ার পরেও তারা জানে না যে তাদের তালাক হয়ে গেছে। বছরের পর বছর তারা সংসার করে যাচ্ছে, সন্তান জন্ম দিয়ে যাচ্ছে। কোন একটা কাজ আমাদের চোখে নির্বিষ মনে হলেও উলামারা তার পরিণাম নিয়ে শঙ্কিত হন। আমরা সাধারণের চোখে দেখি যে উলামারা অল্পতেই ভয় পেয়ে যান। এর কারণ আমাদের চোখে যা ধরা পড়ে তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে তারা দেখতে পান।
আমরা কি পরিমান জাহিলিয়াতের মধ্যে বসবাস করছি তা জেনে তারা আতঙ্কিত হন। চেষ্টা করেন যতখানি সম্ভব মানুষকে হেদায়েতের পথে, সঠিক পথে রাখা যায়। আমাদের দিক দিয়ে হয়তো অনেক সময় কোনো সহযোগিতা পান না। আমি জানি না শরীয়তের প্রায় প্রতিটা জায়গায় মানুষের সীমালংঘন দেখে কিভাবে তারা ধৈর্য ধারণ করতে পারেন। তারা দেখেন মুসলিম হয়েও অন্ধকারের মধ্যে বসবাস করছি আমরা।
আমাদের কাজ যেটা প্রয়োজনীয় সেটা জেনে নেয়া। রোগের ওষুধ ডাক্তারদের কাছে, আর বিধি-বিধান সম্পর্কিত বিষয়, আকিদা বিশ্বাস সম্পর্কিত বিষয় সর্বোপরি আমাদের জীবন যাপন এর প্রতিটি বিষয়ের শরীয়ত সম্মত সমাধান জানতে হলে তাদের শরণাপন্ন হওয়া সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।