আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় ইলাহ, আর মুহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসুল- এ সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে একজন মানুষের মুসলিম সত্ত্বা জন্মগ্রহণ করে। আল্লাহ, ফেরেশতা, আখিরাত, আসমানি কিতাব, তকদীর(ভাগ্য), ও নবী – রাসুলদের উপর ঈমান আনার মাধ্যমেই তার যাত্রা শুরু হয় একজন আদর্শ মানুষের গুণাবলির দিকে।
কিন্তু আমাদের সমাজে জনমানুষের মধ্যে সেই আদর্শ গুণাবলি কোথায়?
অথচ ঈমান আনয়নের পর তাঁর উপর ফরযগুলো যেমন- নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, পর্দা ইত্যাদি পালন অত্যাবশ্যক। কিন্তু একজন মুসলিম হয়েও কয়জনকে নামাজ পড়তে দেখি আমরা? বাকি ফরযগুলোও যেন বিস্মৃত! তাহলে কিসের মুসলিম আমরা?
মানুষের মাঝে রাসুলের সুন্নাত কোথায়? যে কুরআনকে আল্লাহ দিলেন গাইডলাইন হিসেবে, বেশীরভাগ মানুষ তো তা কোনমতে একবার রিডিং পড়তে শিখেই খালাস। তাতে কি লেখা আছে জানার দরকার নাই। মসজিদে ইমাম সাহেব মাঝে মাঝে নামায রোযার কথা বলে এটা তো জানিই!
আল্লাহ কুরআনে বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে তিনি সবকিছু জানেন ও শোনেন। কোন নির্দেশ দিয়ে বলছেন যে, তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক দ্রষ্টা। আল্লাহ সবকিছু জানেন শোনেন ও দেখেন, এটা যদি কেউ বিশ্বাস করে তাহলে সে কিভাবে সবসময় ইসলামের বিধানাবলি সম্পর্কে উদাসীন থাকে?
কিভাবে আমরা সুদ, ঘুষ খাই, দুর্নীতি করি? আল্লাহ নিষেধ করার পরও কিভাবে অন্যের সম্পদ, ইয়াতীম – এর সম্পদ, সরকারী সম্পদ, মসজিদ মাদ্রাসার সম্পদ আত্মসাৎ করি? সারাক্ষণ একজন আরেকজনের নিন্দা, ঝগড়ায় লেগে থাকি? যার হক নষ্ট করা হয়, সে ক্ষমা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন না – এটা বুঝেও কিভাবে অন্যের হক নষ্ট করে, ভাইয়ের হক, বোনের হক নষ্ট করি?
আল্লাহ কঠোরভাবে নজরের হেফাজত, লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে বলার পরও ব্যাভিচার করি, মাঠে ঘাটে প্রেম-প্রীতি করে বেড়াই? কিভাবে এত ধর্ষণ হয়? অশ্লীলতায় চারপাশ কিভাবে ভরে যায়?
কোথায় আমাদের ন্যায়-পরায়ণতা, কোথায় শান্তি? কোথায় আমাদের ঈমান? কিভাবে আমরা মুসলিম? কিভাবে ইসলাম নামায-রোযায় আটকে আছে?
এর কারণ ঈমানী দুর্বলতা। নামাযের বাইরে শেষ কবে জেনেবুঝে আল্লাহ-রসুলের উপর ঈমানের সাক্ষ্য দিয়েছি মনে পড়ে না। কেউ যদি বিপদে কালিমা পড়ে তাতে ব্যাকডেটেড মনে করে আমাদের ঠোটের কোনায় অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও এক চিলতে হাসি আসে।
আমরা জেনেবুঝে মুসলিম হই নি। আল্লাহর অশেষ রহমতে এক মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়েছি, মুসলিমদের মত নাম আছে। অনেকের ক্ষেত্রে এমনও আছে যে হয়ত জীবনে কালিমাই পড়ে নি! ঈমান কি, ইসলাম কি জানেই না। ইসলাম এক ভীতির নাম।
আল্লাহ যে সবকিছু দেখেন এটা আমাদের মনে আসে না। কিয়ামতের উপর বিশ্বাস, জান্নাত-জাহান্নামের বইয়ের পাতায় এঁটে থাকা গৎবাঁধা পড়ার মত। মৃত্যু যে যেকোন মুহূর্তে আসবে তা বিশ্বাস করলেও অন্তরে প্রবেশ করে না।
আমাদেরকে ঈমান আনতে হবে পরিপূর্ণভাবে। অন্তরে ঈমান থাকতে হবে , ঈমানের চর্চা থাকতে হবে, ঈমানের আলোচনা আনতে হবে। দুনিয়ার ভোগ লালসার পরের যে সময়টা আসবে সেটা নিয়েও পরিকল্পনা করতে হবে। আল্লাহর নির্দেশ মানতে হবে, রাসুলের সুন্নাহর অনুসরণ করতে হবে।
বিশৃঙ্খলা থেকে সুশৃঙ্খলার দিকে যেতে হবে, তাহলে আমাদের দুনিয়া ও আখিরাত দুই জীবনেই আল্লাহ শান্তি ও সৌন্দর্য দিবেন। যে জীবন দেখিয়ে গিয়েছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ।