আমরা মাঝে মধ্যেই অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করি। ফেসবুকে “অন দিস ডে” আসে। আমরা শেয়ার দেই। ঈশ! যদি ফিরে যেতে পারতাম! অথবা নিজেদের আড্ডায় বলে উঠি, “দেখতে দেখতে এত দিন হয়ে গেল! ঈশ! যদি ফিরে যেতে পারতাম!”
অথচ আমরা জানি আমরা ফিরে যেতে পারব না। আমরা জানি আজকের এই মুহূর্তটা আরেকটু পরেই অতীত হয়ে যাবে। তারপর তা দুরে সরতে থাকবে। এখন হয়ে যাবে তখন। ১ সেকেন্ড আগে হয়ে যাবে ১ ঘণ্টা আগে, আস্তে আস্তে তা পরিণত হবে ১ মাস আগে, ১ বছর আগে। তারপর পাঁচ বছর পরে শেয়ার দিব, ক্যাপশন দিব – “পাঁচ বছর আগে আজকের এই দিনে”!
আমরা এটা জানলেও আমাদের অন্তরে তা পৌছায় না! আমরা মুসলমান হলেও মুসলমানিত্বের শর্ত জানি না, কোন কারণে ঈমান ভঙ্গ হয়ে আমরা মুসলিম থেকে বের হয়ে কাফিরে পরিণত হই – তা জানি না। বুঝি না। অনেক সময় মুখে বলি কিন্তু অন্তরে পৌছায় না।
আমরা স্ট্যাটাস দেই “ঈশ! যদি ফিরে যেতে পারতাম”। কিন্তু পারি না!
এভাবে যেতে যেতে আল্লাহ না করুক হয়ত বলতে হবে –
“হায়! আমরা যদি আরেকবার (দুনিয়ায়) ফিরে যেতে পারতাম এবং মুমিনদের অন্তর্ভূক্ত হতাম!” (সূরা আশ-শুআরা; আয়াত ১০২)
“এবং সেখানে তারা আর্ত চিৎকার করে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে (এখান থেকে) বের করুন যাতে আমরা সৎকাজ করতে পারি, পূর্বে যা করতাম তা (আর) করব না। (এর জবাবে আল্লাহ বলবেন) আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি, যাতে (সেই সময়ের মধ্যে) যা কিছু চিন্তা করার বিষয় তা চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আগমন করেনি? অতএব আস্বাদন কর। জালেমদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই।” (সূরা ফাতির: আয়াত ৩৭)
‘‘হায়! সে সময়ের অবস্থা যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের কিনারায় দাঁড় করানো হবে; তখন তারা বলবে: হায়! আমরা যদি দুনিয়ায় আবার ফিরে যেতে পারতাম এবং সেখানে আল্লাহর আয়াততে মিথ্যা মনে না করতাম, আর ঈমানদার লোকদের মধ্যে শামিল হতে পারতাম!’’ (সূরা আনআম: ২৭)
আমরা কুরআন সত্য বিশ্বাস করি। কিন্তু তাতে কি আছে জানি না। জানার চেষ্টা করি না। তাতে থাকা কথাগুলোকে গুরুত্ব দিই না।
আল্লাহ আমাদের অন্তরে সঠিক বুঝ দান করুন! সবাইকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিন। যাতে আমাদের এরকম কথা বলতে না হয়।