জ্ঞান! এই একটা শব্দ দ্বারা কত কিছু বুঝানো হয়। তাত্ত্বিক – ব্যবহারিক, ধর্ম, বিজ্ঞান, কলা – এমন কত ধরনেরই না হয়। সবকিছুকেই এই একটা শব্দ দিয়ে বুঝানো হয়।
একটু বুঝ আসার পর থেকেই আমাদের ছুটে চলা। জ্ঞানের সন্ধানে। যদিও এখন জ্ঞানের আড়ালে চাকরির সন্ধানে জিনিসটা অভিভাবক – শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মাথায় সেট করে দেয়। সে যাই হোক – ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় জ্ঞানের সন্ধানে ছুটে চলি আমরা।
ইন্টারনেটের কল্যাণে জ্ঞান এখন সহজলভ্য। যে যা ইচ্ছা শিখতে পারে। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং থেকে সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞানের গভীর গভীর তত্ত্ব থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞান ইত্যাদির আপডেটেড তথ্য এখন হাতের মুঠোয়।
গবেষকদের জন্য ইন্টারনেট একটা মোক্ষম হাতিয়ার। কোন বিষয়ে নতুন কি গবেষণা হল তা জানতে ইচ্ছা হল সার্চ দিলাম, তার সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য গবেষণাপত্র পড়ে ফেললাম। জ্ঞানের এখন এমন অবস্থা যে খুব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ নিয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দেয়া যায়, তবুও শেষ যেমন হয় না, তেমনি অস্থিরতা – হতাশাও সঙ্গী হয়ে যায়।
বিভিন্ন বিষয়ের ব্যুৎপত্তি অর্জন করার একটা বড় সীমাবদ্ধতা হল সময়। হাতে সময় অনেক সংক্ষিপ্ত এবং অনিশ্চিত। কাজেই এই পার্থিব জীবনের জ্ঞান অর্জন করতে গিয়ে আমি আমার আত্মিক জ্ঞান অর্জনের সময়টাকে শূন্য করে ফেলছি না ত! নিজের জীবন চালানোর এবং আশেপাশের মানুষের প্রতি আমার আচরণ, আল্লাহর প্রতি আমার বিশ্বাস এগুলো সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করছি কি আসলে? জ্ঞান কি আমার আত্মার খোরাক হতে পেরেছে – নাকি আত্মাকে হতাশায় নিমজ্জিত করছে – নিয়মিত এই প্রশ্নগুলো নিজেকে করছি ত?
—
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিযিক এবং কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করি।