একসময় যখন কোন অংকে আটকে যেটাম তখন উল্টোদিক থেকে পিছনে আসা শুরু করতাম। শুরু থেকে কয়েক লাইন, শেষ থেকে কয়েকও লাইন।
এসএসসি পরীক্ষা থেকে শুরু করে চাকরি পরীক্ষা পর্যন্ত। বেশ কাজের ট্যাকটিক্স, আমার ধারণা অনেকেই করে।
মোটামুটি প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর থেকে আমাদের কাছ থেকে পরিবার, সমাজ অনেক কিছু আশা করে। এখন অবশ্য সঠিকভাবে বলতে গেলে জন্ম নেয়ার আগ থেকেই আমাদের উপর আশার পারদ জমা শুরু হয়, শিশু জন্ম নিয়েই পরে বিপদে, আগে জানলে হয়ত চেষ্টা করত এই দুনিয়ায় না আসতে। বয়সের সাথে এই পারদ চাপ বাড়তে থাকে, মধ্যবয়সে গিয়ে তা মনে হয় সর্বোচ্চ হয় এবং চাপে চাপে নুয়ে পড়ে সে তার জীবন শেষ করে এক অদৃশ্য হতাশা সাথে নিয়ে।
মানুষ সমাজের যে স্তরে জন্ম নেয়, তাকে সবসময় তার উপরের স্তরে যাওয়ার জন্য চারদিক থেকে উৎসাহ দেয়া হয়, অন্তত সেই স্থানটা ধরে রাখা তো আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। এই দুনিয়ায় কেন এল, আর সে কেন এখান থেকে গেল এসবের হিসাব যেমন করার সময় পায় না সে, তেমনই প্রত্যাশার ঘানি টানতে আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের শুকরিয়াও আদায় করার ফুরসত পায় না।
অথচ নবীজির যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা সম্পর্কিত হাদিসের সংখ্যা কম নয়, আর সেগুলো পড়লে বোঝা যায় এই অন্তঃসারশূন্য আশা আকাঙ্ক্ষার চোরাবালিতে কিভাবে সে ডুবে আছে। অনেক সময় বুঝলেও এখান থেকে উঠার সুযোগ তার হয়ে উঠে না।
দুনিয়াকে নবীজি বর্ণনা করেছেন এক মুসাফিরের বিশ্রামের সময়টুকু হিসাব। অন্যদিকে আল্লাহ তায়ালার কাছে এই দুনিয়ার মূল্য একটা মশার ডানা পরিমাণও নয়।
প্রতিযোগিতার এই দুনিয়ার ছলনা থেকে বের হতে তাই মাঝে মাঝে উল্টো দিকে হিসেব করতে ইচ্ছে করে। জন্ম দিয়ে নয়, মৃত্যু থেকে হিসাব করলে প্রত্যাশার চাপটা প্রকৃত শুণ্যরেখা থেকে শুরু হয়। তখন উল্টোদিকে অংকটা মিলাতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না।
আল্লাহ তায়ালা পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করেছেন,
‘ প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর ‘অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই প্রকৃত সফলকাম। আর দুনিয়ার জীবন ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া কিছু নয়।’- সুরা আলে ইমরান, ১৮৫।
আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতের বিষয়বস্তু মাথায় রেখে সর্বনিম্ন পারদচাপে এই জীবন অতিবাহিত করার তৌফিক দিন। আমিন।