জেনে বলুন

জেনে বলুন

ধর্ম নিয়ে কিছু বলতে চান, দাঁড়ান, থেমে যান।

কোন কিছু বলার আগে চিন্তা করুন এই বিষয়ের ব্যাসিক জানেন কিনা। না জানলে চুপ থাকেন। এটা সব থেকে কার্যকরী ঔষধ। যে চুপ থাকল, সে বেঁচে গেল।

ইমান – আকিদার অ আ ক খ জানেন না, চুপ থাকেন। যারা এত বছর ধরে কুরআন – হাদীসের জ্ঞান লাভ করেন, তাদের সমালোচনা করার মত যোগ্যতা আপনার নাই।

ধর্মের অপব্যাখ্যা দেয়ার অভিযোগ আনার আগে একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবুন কোন বিষয়ের বিশেষজ্ঞের অপব্যাখ্যার সম্ভাবনা কতখানি আর সাধারন মানুষের ক্ষেত্রে কতখানি।

কোন দলের পক্ষাবলম্বন করার আগে ভাবুন এই দলের অনুসরণ আপনাকে জাহান্নামে নিয়ে ফেলবে না তো।

কোন একটা খবর নিশ্চিত না হয়ে প্রচারণায় একজন মুসলিমের উপর অপবাদ দানের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। আর সেটা অনেক বড় অপরাধ যার শাস্তি নির্ধারিত। মানুষের সম্পর্কে সুধারণা করুন। না জানলে না পারলে চুপ থাকুন। নিশ্চিত হয়ে মাসআলা জেনে তারপর কমেন্ট করুন।

আলেম উলামারাও মানুষ। তাদের ভুল হয়। হয়ত অনেক সময় বর্তমানের সাথে পুরোপুরি উপযোগী এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। হয়তো অনেক বিষয়ে সীমাবদ্ধতা থাকে। কিন্তু তাদের ভুলটা থেকে ইমান হারানোর সম্ভাবনা আপনার থেকে অনেক কম। তারা আপনার থেকে ইসলামের কাছাকাছি অবস্থান করে। তাদেরকে ধর্ম ব্যবসায়ী আখ্যা দেয়ার আগে আরেকবার ভাবুন এতে আপনার কি লাভ।

একটা বিষয় চিন্তা করুন, আলেম উলামাদের উদ্দেশ্য কি? তারা কেন স্রোতের বিপরীতে যেতে চান? তাদের বুঝতে চেষ্টা করুন। তারা মুর্খ না যে তারা এই সময়টাকে অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। তারা বর্তমান সম্পর্কে কম বেশী জানেন। এই সমাজে আপনার আমার মাঝে তাদের বসবাস। তারা চেষ্টা করেন এই সমাজটাকে, রাষ্ট্রকে শরীয়তের জায়েজের সীমার ভিতরে আনতে। তারাও যে জায়গায় যতখানি ছাড় দেয়া যায়, চেষ্টা করেন ছাড় দিতে। কিন্তু তাদের সীমাবদ্ধতা আছে। তারা নবীর ওয়ারিশ হিসেবে হককে লুকিয়ে রাখতে পারেন না। কিছু না পারুক অন্তত ইলমকে অন্যদের কাছে পৌছিয়ে দেন।

একটু ভাবুন, চেষ্টা করুন ভালো আলেম চিনতে। যার ইলম নির্ভরযোগ্য, আখলাক ভালো এমন মানুষদের অনুসরণ করুন। দাড়ি টুপি থাকলেই যেমন হুজুর হয় না, তেমনি মাওলানা শব্দ থাকলেই তার কাছ থেকে ইলম নেয়া যায় না। সব শিক্ষক যেমন ভালো হয় না, তেমনি ইলমের ক্ষেত্রেও। যাকে অনুসরণ করবেন তার অফলাইন জীবনটাও পরখ করে নিন।

ভাই, সময়টা বড় খারাপ, ঝুঁকিপূর্ণ। সময়টা ঈমান হারানোর। তাই অযথা নিজের ঈমানের ক্ষতি করবেন না। যত পারেন চুপ থাকেন। পারলে ঈমান-আকিদার ব্যাসিকটা অন্তত ক্লিয়ার করেন, যাতে মূল্যবান ঈমানটা না চলে যায়। গেলে আগের সব ভালোকাজ নিস্ফল ও বঊ তালাক হয়ে যাবে কিন্তু।

একটা কথা মাথায় রাখুন, বেশীরভাগ মানুষ চায় ঝামেলা এড়িয়ে চলতে। তবে দ্বীনের বুঝ সম্পন্ন মানুষগুলোর কি হল যে তারা স্রোতের বিপরীতে চলছে? এটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। অন্ধভাবে ট্যাগাবেন না।

আল্লাহ তায়া’লা আমাদের সবাইকে হেদায়েত দিন এবং দ্বীনের উপর ইস্তিকমাত দান করুন।

পেশায় তড়িৎ প্রকৌশলী। মাঝে মাঝে কিছু লিখতে ইচ্ছা হয়। কিছু লিখি। তারপর আবার মুছে ফেলি। লেখা আর মুছে ফেলার মাঝে কিছু থেকে যায়। সেগুলোর জন্যই এখানে আসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top