গুনাহ ছেড়ে দ্বীনি যিন্দেগীতে অভ্যস্ত হবার ১০টি কৌশল
১. গুণাহ করব না এই নিয়ত করে নিতে হবে প্রতিদিন এর শুরুতে। অথবা যখন মনে পড়বে তখনই।
নিয়ত তিন প্রকার
১. সাধারণ নিয়ত – সুন্নত অনুযায়ী নেক কাজের নিয়ত করা
২. উত্তম নিয়ত – গুণাহ করব না
৩. অতি উত্তম নিয়ত – গুণাহের সুযোগ পেলেও গুনাহ করব না
২. চেষ্টা করতে হবে যত বেশী অযুর সাথে থাকা যায়।
৩. নফস ও ইবলিসকে ধোকা দেয়া। অভ্যস্ত গুণাহ করতে মনে চাইলে এখন না, তবে আরো ভালো পরিবেশ পেলে। নফসকে মুলা ঝুলিয়ে দেয়া। পরে আর গুণাহর কথা মনে থাকবে না।
৪. যাদের নামাজের অবহেলা, তারা ফজরের নামাজের নিয়ত করবেন, এই নামাজ ছাড়বেন না। কোনভাবে মিস গেলে সাথে সাথেই কাযা করব। তবে অভ্যাসে পরিণত করা যাবে না।
৫. গুণাহ হয় চার অংগের কারোণে। মস্তিষ্ক, চোখ, কান, জবান। আর বাকিগুলো সব এগুলোর ফলোয়ার। এই চারটা অংগ দিয়ে গুণাহ করব না। বদ ধারণা করব না। গুণাহের কল্পনা করব না। চোখ দিয়ে কোন গুণাহ করব না, পরনারীর ফটো বা ভিডিও দেখব না। যত জিনিস বলা হারাম, তত জিনিস শোনা হারাম। জবান মুল। জবানকে হেফাজত করতে হবে।
৬. পাচ ওয়াক্ত নামাজের পর মুরাকাবা করা। ২ থেকে ৫ মিনিট। চোখ বন্ধ করে মনে মনে চিন্তা করবেন, কুরআনের একটি আয়াতের অংশ,ওহুয়া মায়াকুম, আইনা মায়া কুংতুম। আল্লাহ তোমাদের সাথে আছেন, তোমরা যেখানেই থাক না কেন।
৭. পরিবেশ পাল্টাতে হবে। মোবাইলে গুনাহ হলে যদি বাসায় গিয়ে গুনাহ হয়, তবে মোবাইল দূরে রেখে আসবে। ওয়াইফাই থাকলে বন্ধ করে দিব। নেট কিনলে অল্প করে কিনব। যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু। এগুলো পরিবেশ পালটানোর একটা সুরত। ল্যাপটপ এ হলে এমন জায়গায় ব্যবহার করতে হবে যাতে সবাই দেখতে পায়। নিজেরটা নিজে বের করতে হবে। গুনাহের জায়গা থেকে দূরে থাকতে হবে।
৮. বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করা। এতে অনেক গুণাহ থেকে রক্ষা হবে।
৯. নেক মজলিসে, আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবতে যত বেশী সময় দেয়া। দিলকে চারজ দেয়া।
১০. বাসায় ঢুকে আউযুবিল্লাহি বিকালিমাতিত্তাম্মাতি মিং শাররি মা খলাক। তিনবার। বাড়ি থেকে বের হবার দোয়া, বিস্মিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লহ, লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। একবার।
ভুলে গেলেও যখনি মনে পড়বে তখনই এই কৌশল অবলম্বন করা। আল্লাহ তায়ালা আগ্রহ দেখেন।
আর বেশী করে আল্লাহ তায়ালার কাছে তৌফিক চাওয়া।
– মাওলানা উমায়ের কোব্বাদি হাফি. এর বয়ান থেকে।
স্থান: গোলাপনগর, ভেড়ামারা তারিখ: ২৫/০২/২০২১