ব্যালেন্স পয়েন্ট

ব্যালেন্স পয়েন্ট

মুমিনের ব্যাপারটাই আশ্চর্যজনক!

সব সময় ব্যালেন্স পয়েন্টের দিকে ঝুঁকে যায়। জীবনের যে-কোন ব্যাপারেই হোক। কাজের জন্য পরিকল্পনা করে, আবার আল্লাহর উপর ভরসা করে।

কাজে যেমন ফাঁকি দেয় না তেমনি একেবারে ডুবেও যায় না। দুনিয়ার কাজ করে, আবার আখিরাতের কাজও করে। দুনিয়ায় বিচরণ করে কিন্তু মন থাকে আখিরাতে।

হতাশাটা মুমিনের জন্য অসম্ভব। যখন ভালো কিছু হয় তখন সে শুকুর করে, আপাতদৃষ্টিতে মন্দ কিছু হলে সবর করে। রিজিকের জন্য প্রচেষ্টা চালায়, আবার যা পায় তাতেই সন্তুষ্ট থাকে। তাকদিরে বিশ্বাস রাখে। থাকে পেরেশানি মুক্ত ফ্রি মাইন্ড।

‘‘মুমিনের ব্যাপারটাই আশ্চর্যজনক। তার প্রতিটি কাজে তার জন্য মঙ্গল রয়েছে। এটা মু’মিন ব্যতীত অন্য কারো জন্য নয়। সুতরাং তার সুখ এলে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। ফলে এটা তার জন্য মঙ্গলময় হয়। আর দুঃখ পৌঁছলে সে ধৈর্য ধারণ করে। ফলে এটাও তার জন্য মঙ্গলময় হয়।’’[1]

সে পরিবার গঠন করে, দ্বীনের কাজ করে। শরিয়তের সীমার মধ্যে তার বিচরণ। তাকওয়া তার অন্যতম হাতিয়ার।

যে কোন দিকেই তাকানো হোক না কেন সে থাকে ব্যালেন্সে। আমাদের যথেষ্ট বুঝ না থাকার কারণে হয়তো অনেক সময় দেখে মনে হবে একদিকে হেলে আছে। সে যা দেখে আমরা তো দেখিনা। হয়তো যাচাই করার মত ওই বিষয় সম্পর্কে আমাদের যথেষ্ট জ্ঞান নেই, বুঝ নেই।

আল্লাহ ইসলামকে এমন বানিয়েছেন যে মুমিন সবসময় ব্যালেন্স পয়েন্টের দিকে ঝুঁকতে থাকে। অনেক সময় অনেককে কোন একদিকে খুব ভালো মনে হয়। কিন্তু একটু বোঝার চেষ্টা করলে দেখা যাবে যে তিনি নরমাল ব্যালেন্স রক্ষা করে কোন এক দিকে বেশি দক্ষতা অর্জন করেছেন। আসলে এখানে ব্যালেন্সিং হলো দুনিয়াতে হকের উপর থেকে যতবেশী আখিরাতে এগোনো যায়, আল্লাহর প্রিয়পাত্র হওয়া যায়।

“এভাবেই আমি তোমাদেরকে বানিয়েছি মধ্যপন্থী উম্মত, যাতে তোমরা (কিয়ামতের দিন) মানুষ সম্পর্কে সাক্ষী হতে পার ।” [2]

মুমিনের ড্রাইভ থাকবে ব্যালেন্স পয়েন্ট এর দিকে। যখন সে মিটারের স্কেলে ব্যালেন্স পয়েন্টে আসবে তখন তাকাবে মিলিমিটার স্কেলে। মিলিমিটার কমপ্লিট হলে সেন্টিমিটার, মাইক্রোমিটার, ন্যানোমিটার। এটা নির্ভর করবে তার ইলম কতখানি, বুঝ কতখানি তার উপর!

আমরা ব্যালেন্সিং নিয়ে চিন্তা ভাবনা করি না এখন। ভাবিই না আসলে! ভাবলেও এই পথ আমাদের জানা নেই। যখন এই পথে হাঁটি তখন শুরুতে মনে হয় এই বুঝি ব্যালেন্সে পৌঁছে গেলাম! তারপর আল্লাহ হয়তো মিটার স্কেল থেকে মিলিমিটারে স্কেলের ব্যালেন্সিং এ দেখার সুযোগ করে দেন। ফলে মনে হয় সেতো বহুদূর। আবার এই স্কেলে সফলতার কাছাকাছি গেলে স্কেল পরিবর্তন ঘটে, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মে রূপ নেয়। এই ব্যাপারটা স্পষ্ট করে বোঝা যায় কোন আল্লাহ ওয়ালা লোকের সোহবত এ গেলে ।

সবার ব্যালেন্সিং স্কেল একই নয়। ইমান, আখলাক, তাকওয়া, ইলম ইত্যাদি সবমিলিয়ে নির্ভর করে কোন স্কেলে আছি আমরা!

আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন বিশৃঙ্খলতা হটিয়ে এই ব্যালেন্সিং এর দিকে যেতে হবে। যার সবচেয়ে সুক্ষাতিসুক্ষ কেন্দ্রে রয়েছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ।

ঈমান এবং তাকওয়া সাথে নিয়ে আমাদের এগোতে হবে ইলম এবং আমল এর উপর ভর করে!

বেলা শেষের আগেই শুরু হোক আমাদের পথচলা!

আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে কবুল করুন।

পেশায় তড়িৎ প্রকৌশলী। মাঝে মাঝে কিছু লিখতে ইচ্ছা হয়। কিছু লিখি। তারপর আবার মুছে ফেলি। লেখা আর মুছে ফেলার মাঝে কিছু থেকে যায়। সেগুলোর জন্যই এখানে আসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top