অবাক করা লজ্জাবোধ আমাদের!
প্রকাশ্যে পাপ কাজ করতে লজ্জা বোধ হয় না, দ্বীন মানতে লজ্জাবোধ হয়। দাড়ি রাখতে লজ্জা পাই। সুন্নাহ মানতে লজ্জাবোধ হয়।
ফরজ গোসলের আহকাম গুলো জানাতে আমরা লজ্জা পাই। জরুরী মাসআলা মাসায়েল শিক্ষা দিতে লজ্জা পাই, শিক্ষা নিতে লজ্জা পাই। এর অভাবে পবিত্রতা অর্জন বাধাগ্রস্ত হলে হোক! ফরজ নামাজ মিস হলে হোক, রাতে গোসল দিতে লজ্জা পাই। আল্লাহ কে লজ্জা পাই না, মানুষকে লজ্জা পাই।
সমাজ জিনা পরকীয়ায় সয়লাব হয়ে যাক! এ বিষয়ে কথা বলতে লজ্জা পাই! ছেলে মেয়ে মাঠে-ঘাটে প্রেম করে বেড়াক কোন সমস্যা নাই, তাকে নিষেধ করতে লজ্জা পাই, বিয়ের কথা তো দূরে থাক! এ বয়সে একটু আধটু ভ্যালেন্টাইন পালন করবে না – সে তো তার জন্য লজ্জার ব্যাপার।
অশ্লীলতা এখন স্বাভাবিক! পর্নো – ব্লু ফিল্মের থাবায় যুব বৃদ্ধ নেশাগ্রস্থ হোক, এ ব্যাপারে কথা বলা বড় লজ্জার ব্যাপার, সচেতনতা দূরে থাকুক! অশ্লীলতায় সয়লাব হোক, যুগটাই এমন! কথা বলে লজ্জায় পড়বো কেন বাপু!
সুদ খাওয়া, ঘুষ খাওয়া, ঘুষ দেয়া এগুলো তো এখন ডাল ভাত! এগুলো নেতিবাচক ভাবে আলোচনা করাটাই এখন লজ্জার ব্যাপার!
লজ্জা একটা অনেক দামি গুণ! কিন্তু অবস্থা এমন হয়ে গেছে যে বাহিরে শুধু খোসাটাই আছে ভিতরে পঁচে গলে নষ্ট হয়ে গেছে। খোলসেরও এখানে-ওখানে ফুটোফাটা হয়ে গেছে। লজ্জার প্রয়োগ নাই, শুধু আছে অপপ্রয়োগ।
কাউকে লজ্জা ভেঙে বেরিয়ে আসতে বলছি না। শুধু বলছি লজ্জাটা জায়গামতো পান। সবার আগে লজ্জা পান আল্লাহকে! তিনি তো সবকিছু দেখছেন, সব কিছু শুনেন, সব জানেন। তার সামনে দম্ভভরে কিংবা লুকিয়ে পাপ কাজ করে বেড়াচ্ছেন তাতে লজ্জা হয় না?
লজ্জা মুমিনের একটা সিফাত! লজ্জা তাকে ভালো কাজের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।
তাই লজ্জা হোক যথাযথ!
—
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ঈমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা। ( বুখারী ও মুসলিম )