কোন কিছুর সংজ্ঞা নিজের ভাষায়ও দেয়া যায়, আবার বই থেকে একেবারে মুখস্থ করে উগলে দেয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বই থেকে সংজ্ঞাটা দিতে পারলে ভালো নম্বর আসে। আবার অনেকে বই এর থেকেও ভালো সংজ্ঞা দিতে পারেন। তবে শিক্ষকের দেয়া সংজ্ঞা লিখলেই শিক্ষক বেশি খুশি হন মুখে যাই বলুক না কেন।
মাঝে মাঝে আবেগে বশীভূত হয় আমরা জীবনের সংজ্ঞা দিয়ে দেই। ফেসবুকে থাকে এর ছড়াছড়ি। আমরা সংজ্ঞা দেই নিজেদের মত। কেউ কেউ আবার একটু গবেষণা করে মিশেল করে একটা কিছু দিয়ে থাকেন।
এগুলো আমাদের ধারণা। সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়, অনেক বেশি বায়াসড থাকে।
আমরা কতখানি দ্বীন বুঝি এবং মানি তা অনেকখানি বোঝা যায় এই সংজ্ঞাগুলো কুরআন হাদিস এ দেয়া জীবনের সংজ্ঞার কতখানি কাছাকাছি। নিজের রিয়েলাইজেশন এর উপর দ্বীনের রিয়েলাইজেশনকে প্রাধান্য দেওয়া এবং কাজে কর্মে তার প্রতিফলন আস্তে আস্তে আত্মসমর্পণের দিকে নিয়ে যায়।
দার্শনিকের মত নিজে নিজে জীবনকে ডিফাইন করে হয়তো সাময়িক মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়, কিন্তু তা অনেকখানি প্রকাশ করে দেয় আমরা ইসলামের বুঝ থেকে কতখানি দূরে।
অনেক সময় হয়তো আমাদের মাঝে সাময়িক ভাবে দ্বীনের উপলব্ধি আসে। এই উপলব্ধিকে আমাদের জীবনে ধারণ করতে আমাদের কমফোর্ট জোন থেকে বের হওয়া জরুরী।
স্রোত বেশিরভাগ সময় নিচের দিকেই প্রবাহিত হয়। তাতে গা এলিয়ে দিয়ে হয়তো সাময়িক আরাম পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌছাবো তার ধারণা করাটাও জরুরী।
সময়ের সাথে আমাদের যে পরিবর্তন হয় তা আমাদের বর্তমান অবস্থার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটাতে পারে না। যদি আমি উপলব্ধি করি যে আমি সঠিক পথে নেই, তবে সে সময়ই আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমার জীবনের সংজ্ঞাকে ইসলামে জীবনের সংজ্ঞার সাথে উপরিপাতন ঘটাতে হলে কিছুটা বিশৃংখলার মধ্যে যেতে হবে, কিছু জিনিসের মায়া ছাড়তে হবে ।
You have to sacrifice something to acheive something that is not in line with your current status.
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।
—
“কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবুল করা হবে না এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” -সূরা আলে ইমরান ৩:৮৫
“নিঃসন্দেহে ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন। যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল তারা পরষ্পর বিদ্বেষ বশত তাদের নিকট জ্ঞান আসার পর বিভেদ ঘটিয়েছিল আর কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করলে আল্লাহ তো হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত তৎপর।” -সূরা আন নিসা ৪:১৯
“আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামতও পূর্ণ করলাম। আর দ্বীন হিসাবে ইসলামকে তোমাদের জন্য মনোনীত করলাম।” -সূরা মাইদা ৫:৩