সাইকেল চলে, গাড়ি চলে। চাকা বৃত্তাকারে ঘুরতে থাকে। আর সেই চাকার উপর ভর করে সাইকেল চলে যায়। আমরাও চলে যাই গন্তব্যের দিকে। অথচ সাধারণত আমরা গন্তব্যস্থলের দিকে ফোকাস করতে থাকি, চাকা যে বৃত্তাকারে ঘুরছে এ কথা মনেই থাকে না। আনমনে এগোতে থাকি।
সাইকেলের চাকার মতো সময়ের চাকা ঘুরতে থাকে। গ্রীষ্ম যায়, বর্ষা যায়, শীত আসে। আবার গ্রীষ্ম আসে। শীতে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা আশায় থাকি, কবে একটু শীত কমবে পরিস্থিতি একটু গরম হবে। কিন্তু ওই একটু গরম বেশি দিন স্থায়ী হয় না। গতির জড়তার কারণে তা গ্রীষ্ম পর্যন্ত চলে যায়। আবার আমরা অতিষ্ঠ হয়ে একটু শীতলতার ছোয়া চাই। পুনরায় শীত আসে।
ঋতুর আবর্তনের সাথে সাথে ক্যালেন্ডারের চাকা ঘুরতে থাকে। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ এভাবে এগোতে এগোতে ডিসেম্বর, আবার জানুয়ারি। ২০০১ কিংবা ২০২১। এভাবেই সময় এগিয়ে যাবে।
ঋতুর চাকা কিংবা ক্যালেন্ডারের চাকা দুটোই আমাদেরকে ভ্রান্তির মধ্যে রাখে। এই দুই চাকার উপরে ভর করে সময় এবং আমাদের জীবন দুইটাই এগিয়ে যায় গন্তব্যের দিকে। কিন্তু আমাদের ফোকাস থাকে ওই চাকার দিকে। গন্তব্যের কথা মাথায় আসে না। হয়তো মাঝে-মাঝে পেছনে ঘুরে তাকাই আহা কত পথ ফেলে এসেছি! কিন্তু একজন দক্ষ চালক কি পিছনে ঘুরে সাইকেল চালাবে?
পিছনে ঘুরে দেখাটা দোষের কিছু না। কিন্তু দৃষ্টিসীমা যদি চাকার আবর্তনের দিকে আবদ্ধ থাকে, আর যেটুকু সময় অবকাশ পায় সেটুকু পিছনে তাকিয়ে ব্যয় করে, তাহলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই জীবন এর বরাদ্দকৃত সময়টা শেষ হয়ে যাবে। এমন গন্তব্যে পৌঁছে যাবে যেটা সুখকর নয়।
ওহে ভ্রাতা, ওহে ভগ্নি আমার, তোমার দৃষ্টিকে সামনের দিকে ছড়িয়ে দাও। একটু ভালো করে দেখো যে রাস্তায় চলছি আমরা, তা ছলনাময়ী। এ রাস্তা মরীচিকার মত। খানাখন্দে ভরা অথচ আমাদেরকে দেখায় যেন সে নব্য তৈরিকৃত চার লেনের রাস্তা। এই খানাখন্দ অতিক্রমেই শুধুমাত্র দৃষ্টিকে আটকে রেখো না। আশেপাশে তাকিয়ে দেখো, সামনে তাকিয়ে দেখো, পেছনে তাকিয়ে দেখো। দৃষ্টিকে শুধু সামনের দুই হাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে অপচয় করো না। মাঝে মাঝে দেখে নাও কোথায় চলছি আমরা। এগিয়ে চলো।
বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল, জলকে চল।