ফোকাস

ফোকাস

আল্লাহ তায়ালা তার একটি নিয়ামত হিসেবে আমাদের দুটি চোখ দিয়েছেন। চোখের ফোকাস দূরত্ব অসীম। অর্থাৎ চোখ দিয়ে আমরা বহু দূরের বস্তু খুব সুন্দর ভাবে দেখতে পাই।

আমাদের তৈরি ক্যামেরা অনেকটা চোখের নীতিতে কাজ করে। সুন্দর সুন্দর ছবি তুলি। তবে চোখ এবং ক্যামেরা দুইটার ক্ষেত্রেই আমাদেরকে ফোকাস করতে হয়। অর্থাৎ আমি যে জিনিসটা দেখব বা যে জায়গাটা ভালোভাবে তুলতে চাই সেখানে ফোকাস করতে হয়। ফোকাস এর বাইরের জায়গাগুলো ওঠে কিন্তু সেগুলো অত ক্লিয়ার হয়না। এই সীমাবদ্ধতা স্বাভাবিক। দুনিয়ার সব কিছুরই একদিকে ভালো চাইলে আরেকদিকে সীমাবদ্ধতা চলে আসে। একমাত্র আল্লাহ তা’আলারই কোন সীমাবদ্ধতা নেই। তার ক্ষমতা অসীম।

এ চোখ বা ক্যামেরা দিয়ে যদি আমরা অনেক বড় অংশ ফোকাস করতে চাই, তবে তাতে অনেক সূক্ষ্ম জিনিস হারিয়ে যায়। অবশ্য ভালো ক্যামেরা অনেক বড় জায়গা ভালোভাবে ফোকাস করতে পারে। কিন্তু তারও একটা সীমা থাকে।

আমাদের জীবনে বিভিন্ন দিক থাকে, বিভিন্ন চাওয়া-পাওয়া থাকে। আমরা সবকিছুতে ভালো করতে চাই। অনেকে অনেক কিছুতে ভালো করে, অনেকে আবার তেমন কোন কিছুতেই ভালো করতে পারে না। এ বৈচিত্র্য তো আল্লাহর দেওয়া। যতই আমরা বুলি উড়াই যে আমাদের দ্বারা কোন কিছুই অসম্ভব না। আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকবেই।

সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েই আমাদের আগাতে হবে। আল্লাহ আমাদের যে ক্ষমতা দিয়েছেন, আমাদের জন্য যে সময় বরাদ্দ করেছেন সেটা বিচক্ষণতার সাথে কাজে লাগাতে হবে।

আমাদের পারিবারিক জীবন আছে, সামাজিক রাষ্ট্রীয় প্রত্যেক জায়গায় ভূমিকা আছে। আমাদের নিজের চাওয়া-পাওয়া আছে। ভালো লাগার বিষয় আছে। এই সবগুলোর প্রায়োরিটি আমাদের কাছে এক না, কোনটার বেশি, কোনটার কম। আবার আমাদের জন্য আল্লাহর কিছু চাওয়া-পাওয়া নির্ধারিত আছে। তিনি আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। কিছু জিনিস আছে তা অবশ্য পালনীয়।

আমরা জীবনে অনেক কিছু হতে চাই কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ সাহিত্যিক, এমন অনেক কিছু। অনেকের কাছে খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকাই অনেক বড়। এটাও সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এছাড়া কোন কাজ ভাল লাগলে এবং সেই কাজ যদি আমরা করতে পারি, তবে আস্তে আস্তে তার প্রতি প্যাশন তৈরি হয়। এটা একেবারে ফিক্সড কোন বিষয় না। একসাথে একাধিক প্যাশন থাকাও দোষের কিছু না। কারো ক্ষেত্রে আবার কোন কিছুতেই নাও থাকতে পারে।

ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক আমি অনেক কিছুতেই সময় ব্যয় করি। এই যে বিভিন্ন বিষয়ে সময় ব্যয় করি আমাদের জীবনে এর গুরুত্ব এবং শরীয়তের সীমারেখায় এর অবস্থান যাচাই করা দরকার। অনেক সময় মনে হয় যে আর্থিক, সামাজিক বা পারিবারিক চাপে আমি এই কাজগুলোতে সময় দিচ্ছি। এখন এইগুলোতে সময় না দিলে আমার জন্য মহাবিপদ। এইটা আমার বুঝের সীমাবদ্ধতা। আমরা তো চেষ্টা করার মালিক, দেওয়ার মালিক তো আল্লাহ। তিনি যদি আমার জন্য বিপদ নির্ধারণ করে রাখেন, তবে তাতে সবর করা দরকার, আর সাফল্য দিলেও শোকর করা দরকার।

আমাদেরকে আমাদের ফোকাসের জায়গাটা চিহ্নিত করতে হবে। নিজের প্রায়োরিটি, পরিবারের প্রায়োরিটি, আল্লাহর প্রায়োরিটি, দুনিয়া-আখিরাতের প্রায়োরিটি – এগুলোর সমন্বয় করে বুঝতে হবে কোন জায়গাটা আমাদের জন্য এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের কাছাকাছি প্যাশন তৈরি করে নিতে হবে। একটি না হলে, একাধিক। তবে খুব বেশি না। কারণ বেশি হলে ফোকাস হারিয়ে ফেলবে। তারপরেই ফোকাস অনুযায়ী চেষ্টা করতে হবে এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহ তাআলার উপর নির্ভর করতে হবে। ইনশাআল্লাহ এটাই আমাদের জন্য একদিন মহাসাফল্য নিয়ে আসবে। পরম মহাসাফল্য, আপাত নয়।

পেশায় তড়িৎ প্রকৌশলী। মাঝে মাঝে কিছু লিখতে ইচ্ছা হয়। কিছু লিখি। তারপর আবার মুছে ফেলি। লেখা আর মুছে ফেলার মাঝে কিছু থেকে যায়। সেগুলোর জন্যই এখানে আসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top