মৃত্যু

মৃত্যু

মৃত্যু এক অদ্ভুত জিনিস। আল্লাহ তায়ালা মৃত্যুকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সকল প্রাণীর জন্য। কার কোথায় মৃত্যু হবে তাও ঠিক করে দিয়েছেন। উক্ত সময় উপস্থিত হলে ঠিকই কোন না কোন ভাবে মালাকুল মউতের কাছে সে পৌঁছে যাবেই। এ ব্যাপারে মানুষের এখতিয়ার নাই।

রিযক জিনিসটাও অদ্ভুত। রিযক দ্বারা শুধু খাওয়া বুঝায় না। বরং মানুষের জীবিকা সহ অনেক বিষয় এর মধ্যে যুক্ত। আল্লাহ তায়ালা মানুষের রিযকও নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তাই যার ভাগ্যে যে রিযক লেখা হয়েছে তা সে পাবেই।

কথা হল রিযক পাওয়ার পদ্ধতিটা কি হবে? আমি কি আল্লাহর উপর ভরসা করে সৎভাবে আমার রিযক পাওয়ার চেষ্টা করব? নাকি অধৈর্য হয়ে অসৎ পথে, হারাম পেশার মাধ্যমে আমার বরাদ্ধকৃত রিযক হাসিল করব? চয়েস আমার। এটাই আল্লাহ দেখেন। আমার তাওয়াককুল কতখানি, ঈমানের অবস্থা কি ইত্যাদি অনেক বিষয় এতে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

একইভাবে মৃত্যু নির্দিষ্ট হলেও উক্ত মৃত্যুতে কার কি ভূমিকা তাও আল্লাহ দেখেন। কেউ আত্মহত্যা করলে তাকে সে কারণে ধরবেন। আর কেউ কাউকে হত্যা করলে সেজন্য তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

ইসলাম অন্ধকার যুগ এর অবসান ঘটিয়ে আলোর সূচনা করেছে। আল্লাহ তায়ালা কুরআন সুন্নাহর মাধ্যমে কোন পরিস্থিতিতে কি করতে হবে তা জানিয়ে দিয়েছেন। ইসলামের বিচারব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা রয়েছে। সেখানে বিচারক আছে, আইন আছে, সাক্ষী আছে, তথ্য-প্রমাণ আছে, আল্লাহর ভয় আছে। বিচার বড় কঠিন কাজ।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তিকে বিচারকের পদে নিযুক্ত করা হলো, সে যেন বিনা ছুরিতে যাবাহ হল।

আল্লাহ তায়ালা বার বার জমিনে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করতে নিষেধ করেছেন। ইসলামি বিচারব্যবস্থার লক্ষ্য হচ্ছে ফিতনা ফ্যাসাদ দুর করে ন্যায়বিচার, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা।

লালমনিরহাটে যাকে মেরে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হল তিনি আমাদের এলাকার। ভদ্র ও নামাজি মানুষ। ব্যক্তিগতভাবে আমার সাথে পরিচয় নেই। কুরআন অবমাননার গুজব তুলে তাকে পিটিয়ে মারার ভিডিও ভুলবশত প্লে করেছিলাম। তারপর থেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঐ দৃশ্য ভেসে উঠছে। উনার আত্মীয়স্বজন পরিবারের অবস্থা কল্পনাও করতে পারি না।

জনতা যে আবেগ নিয়ে এই কাজ করল তার ভিত্তি কি? ওই জনতার মধ্য কয়জন নামাজি পাওয়া যাবে? ইসলাম কি, এইটা বুঝে এরকম কয়জন পাওয়া যাবে? প্রকৃত ইলমের অবস্থান কোথায় এখানে?

জনতার আবেগ পুঁজি করে কারা এই ঘটনা ঘটাল? এই মূর্খ জনতার মূর্খতার জন্য দায়ী কে?

আজ আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইনের কোন প্রয়োগ নাই। শাসকের মধ্যে ইসলামের ন্যুনতম জ্ঞান যেমন নাই, তেমনি শাসিতের মধ্যেও নাই। সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা, চেতনাভিত্তিক রাজনীীতিব্যবস্থা ইসলামের কঙ্কাল রেখে ভিতরে অন্তঃসারশূন্য বানিয়েছে। এই শিক্ষা আমাদের ইসলামের সম্পর্কে জ্ঞান দিতে অজ্ঞ, প্রকৃত ঈমানের আলো দিতে ব্যর্থ, তেমনি ব্যর্থ দুনিয়াবি জ্ঞানের ক্ষেত্রেও। তাই আজ সমাজ যেমন ঘুনেধরা, ভদ্রতার আড়ালে ব্যাভিচারের ছড়াছড়ি, প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতির ব্যাপ্তি, আস্থাহীন বিচারব্যবস্থা। দলান্ধ, ধর্মান্ধ, চেতনায় অজায়গায় বেজায়গায় আবেগি এক জাতি বানিয়ে রাখা হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা উনার ভুলত্রুটি গুলোকে মাফ করে তাকে জান্নাতবাসী করুন। এই মৃত্যুতে প্রত্যেকে তার ভূমিকার জন্য আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে বাধ্য।

আল্লাহ আমাদের জন্য প্রত্যেক মৃত্যুকে শিক্ষণীয় করে দিন। আমাদেরকে ঈমানের উপর মৃত্যু দিন। সময় ফুরিয়ে আসার আগেই ইসলামকে জানার ও বোঝার তৌফিক দিন। নিজে জানি, অন্যকে জানাই। আল্লাহ এই সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্ধকার দুর করে দিন ইসলামের আলো দিয়ে।

পেশায় তড়িৎ প্রকৌশলী। মাঝে মাঝে কিছু লিখতে ইচ্ছা হয়। কিছু লিখি। তারপর আবার মুছে ফেলি। লেখা আর মুছে ফেলার মাঝে কিছু থেকে যায়। সেগুলোর জন্যই এখানে আসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top