মৃত্যু

মৃত্যু

আমরা মাঝে মাঝেই মৃত্যু দেখি। কখনও আমাদের আপনজন মরে, কখনও দুরের কেউ। ছোট বয়সে আমরা মৃত্যু কি তেমন বুঝি না। একটা সময় পরে আস্তে আস্তে যখন কাছের মানুষজন কিছু মারা যায় তখন আমরা এটাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে শুরু করি। এবং একটা সময় পরে মৃত্যু আর্থিক-সামাজিক-পারিবারিক বিষয়াদির ক্ষতি ছাড়া চিন্তাগতভাবে কোন ইফেক্ট ফেলে না।

আমাদের কাছের মানুষ মরে। আমরা প্রচণ্ড শোক অনুভব করি? কিন্তু কতক্ষণ? লোকটা মারা যাবার পরমুহূর্ত, তার জানাযার নামাযের সময়, তাকে কবরে রেখে আসার পর – এই তিন মুহূর্তে আমাদের শোক কি একই পরিমাণে অনুভূত হয়?

কাউকে কবরে রেখে আসার পর আমরা আলোচনায় বসি। তার সহায়-সম্পত্তি, দেনা-পাওনা, আচার-আচরণ নিয়ে কথা বলি। বাড়তি পাওনা হিসেবে আমাদের সমাজে কিছু অদরকারী বিদআতি অনুষ্ঠান কেমনে করা হবে তা নিয়ে ঝড় উঠে। কেউ কেউ ঝড় দেখে ভাবি, এই মৃত ব্যক্তি যদি এসে এ আলোচনা দেখত তাহলে সে কি ভাবত?

অথচ সে কিন্তু দেখেছে অন্যদের মৃত্যুর সময়। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তি জানে একসময় তারও পালা এসে যাবে। হয়ত এরকম একটা ছোটখাট মিটিং বসবে। তারপর একসময় সবাই ভুলে যাবে।

তাহলে কিসের অভাব? আমরা কি বুঝি না? দুনিয়ার এত হিসাব বুঝি আর এটা বুঝব না কেন। আমরা কি দেখি না? শুনি না? নাকি অনুভব করি না? কোন অদৃশ্য পর্দা আমাদেরকে পৃথক করে রেখেছে?

আমরা তাহলে কি সময়ের ছলনায় বিভ্রান্ত? এখনও বহুত সময় বাকি আছে – আমাদের নিজেদেরকে দেয়া এই প্রবোধের উৎস কি? আমাদের এই আলোচনায় নিজেদের মৃত্যুর স্মরণ একবারও আসল না!

হে আল্লাহ! তুমি আমাদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করো। প্রত্যেকটা মৃত্যুকে আমাদের জন্য শিক্ষণীয় করে দাও। আমাদের শোককে ছাপিয়ে নিজের কর্ম কতখানি আখিরাতে উপকারী হবে তা উপলব্ধি করার তৌফিক দাও। আমাদের ঈমানের অবস্থা নিয়ে চিন্তা করার তৌফিক দাও। আমাদের হেদায়েত দাও।

আজ আমি জানাজায় অংশ নিচ্ছি। কাল হয়ত ঐ খাটিয়ায় শুয়ে থাকব। এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য তো শুধু সময়ের। সময় তো ছলনাময়ী, চলে যাচ্ছে অবিরাম। আর সময়ের ছলনা থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহ ছাড়া আর কে আছে?

পেশায় তড়িৎ প্রকৌশলী। মাঝে মাঝে কিছু লিখতে ইচ্ছা হয়। কিছু লিখি। তারপর আবার মুছে ফেলি। লেখা আর মুছে ফেলার মাঝে কিছু থেকে যায়। সেগুলোর জন্যই এখানে আসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top