পাঞ্চ লাইন

পাঞ্চ লাইন

যত বড় বড় থিওরি, দর্শন হোক না কেন সেগুলো এক দুই লাইনের পাঞ্চ লাইনের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। তা হতে পারে পদার্থবিজ্ঞানের কোন থিওরি, কিংবা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের। যেমন আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব এর উপর ভিত্তি করে এর আলোচনা বহুদূর গেছে। আব্রাহাম লিংকনের মত কিছু মানুষের দেয়া দুই একলাইনের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা থেকে তা অন্যরা মহীরুহতে পরিণত করেছে। এগুলা দুই একটা উদাহরণ মাত্র। উদ্দেশ্য এই যে – যত বড় বিষয়ই হোক না কেন শুরুর ক্ষেত্রে যে দুই এক কথার সংজ্ঞা থাকে তাই পরবর্তীতে ওই বিষয়ের দুর্বলতা, সবলতা, ব্যাপকতার সূচনা হিসেবে কাজ করে।

আমরা জীবনধারা বা জীবনযাত্রা যাই বলি না কেন তারও কিছু পাঞ্চ লাইন থাকে। এগুলো হতে পারে পরিবর্তনশীল। এই যেমন ছাত্রজীবনে কিছু পাঞ্চ লাইন – “যে করেই হোক ভালো রেজাল্ট করতে হবে”, “ধুর! যাক না জীবন যাচ্ছে যেমন” – এই টাইপের। জীবনের ক্ষেত্রে ‘ধনসম্পদ’, ‘খ্যাতি’, ‘শান্তি’, ‘ক্ষমতা’ ইত্যাদি পাঞ্চ লাইন হিসেবে কাজ করে।

এ ধরণের ব্যাপারগুলো মানুষের ঐ সময়ের জীবনধারা নিয়ন্ত্রণ করে। তার চিন্তাভাবনা, কাজকর্ম, সফলতার ধারনা এগুলোর ক্ষেত্রেও এর প্রভাব বিদ্যমান। উদাহরণস্বরূপ – গ্রামীণ মধ্যবিত্ত মানুষের ক্ষেত্রে – ‘ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শিখে মানুষ হবে, চাকরি করবে, তারপর সুখেশান্তিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করবে’ – এই ধরণের চিন্তাধারা ব্যাপকভাবে চোখে পড়ে। এটাই হল বাবা-মা এর শান্তিময় জীবনের ধারণা।

সময়ের সাথে সাথে আমাদের ধ্যান-ধারনা, চিন্তা, কাজকর্মের এ ধারণাগুলো পরিবর্তন হয়। আজ আমাদের জীবনাদর্শের মুল উপকরণের সাথে এক বছর পর মিল নাও থাকতে পারে। এর কারণ সময়ের সাথে আমাদের বিশ্বাসের জায়গাটুকু পরিবর্তন হয়ে যাওয়া।

ইসলামকে বলা হয় এক পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। জীবনের এহেন দিক নাই যেখানে তাঁর পদচারণা নেই। আল্লাহ মানুষকে যেভাবে চলতে বলেছেন সেভাবে জীবনযাপন করা, তার সন্তুষ্টিকে জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নেয়া একজন মুমিনের জীবনাদর্শ।

আল্লাহর ইবাদাত যেমন – নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি, ব্যাক্তিগত আখলাক যেমন- ভালো ব্যবহার, সত্যবাদিতা, হিংসা – বিদ্বেষ পরিত্যাগ করা, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজে নিষেধ করা, গীবত পরনিন্দা না করা, কৃপণতা পরিহার করা ইত্যাদি এগুলো একজন মুসলিমের অবশ্য কর্তব্য। এছাড়া হালাল- হারাম মেনে চলা, লেনদেন এর ক্ষেত্রে , সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ইত্যাদি জীবনের সব ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিনিষেধ মানলেই সে একজন পরিপূর্ণ মুমিন।

এ বিষয়গুলো যেমন ব্যাপক, তেমনি আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণভাবে মেনে চলা কঠিন। প্রকৃতপক্ষে তা কঠিন না, সহজ। আসলে অন্যান্য তত্ত্ব, দর্শনে যেমন থাকে তেমনি এখানে কিছু মুল বিষয় আছে। ইসলামের মুল হল কয়েকটি বিষয়ে বিশ্বাস বা ঈমান। আল্লাহ, তাঁর নবী-রাসুল, ফেরেশতা, আসমানী কিতাব, আখিরাত, তাকদীর বা ভাগ্য – ইত্যাদি মৌলিক বিষয়ে বিশ্বাস করা। এগুলোতে পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করলে একজন মানুষের জন্য ইসলামী জীবনাদর্শ ধারণ করা সহজ হয়ে যায়।

তাইতো একজন মানুষ নিম্নোক্ত বাক্যটি পরিপূর্ণ বিশ্বাসের সাথে পাঠ করে প্রবেশ করে ইসলামে।

اشْهَدُ اَنْ لاَّ اِلَهَ اِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَه’ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه’ وَرَسُوْلُه’

আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু

অর্থ : আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই। তিনি এক। তাঁর কোন অংশীদার নেই, এবং আমি আরও সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সঃ) আল্লাহ্র প্রেরিত বান্দা ও রাসূল।

এর মাধ্যমে জন্ম নেয় মানুষের মুসলিম সত্ত্বা। এই ঈমান হতে হয় অপরিবর্তনশীল। যা তাকে নিয়ে যায় এক আদর্শ জীবনধারার দিকে। যার বাস্তব উদাহরণ ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ।

পেশায় তড়িৎ প্রকৌশলী। মাঝে মাঝে কিছু লিখতে ইচ্ছা হয়। কিছু লিখি। তারপর আবার মুছে ফেলি। লেখা আর মুছে ফেলার মাঝে কিছু থেকে যায়। সেগুলোর জন্যই এখানে আসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top