আদর্শ

আদর্শ

ছোট থেকে বড় হওয়ার সময় মাঝে মধ্যেই আমাদেরকে আদর্শ দেখিয়ে দেয়া হয়। সেটা বাবা-মা দিক আর শিক্ষকেরাই দিক। ঐ যে অমুক ভাইকে দেখছ না, ওর মত হতে হবে। আরেকটু বড় হলে যখন অমুকের দোষগুলা চোখে পড়তে শুরু করে তখন তাকে হয় আদর্শ থেকে নামিয়ে দিতে হয় অথবা তার দোষগুলোকেও গ্রহণযোগ্য মনে করার ধারণা চলে আসে।

আমরা প্যারাগ্রাফ লিখি – মাই ফেভারিট পারসন। বেশীরভাগ সময় সেখানে বাবা-মা কিংবা আমাদের শিক্ষক স্থান পায়। অনেক সময় আমরা বিষয়ভিত্তিক আদর্শ নির্ধারণ করি। রাজনীতিতে অমুক আমার আদর্শ, নৈতিকতায় তমুক, সামাজিক আচরণ ব্যবহারে অন্য কেউ। সন্তানকে মানুষ করার ক্ষেত্রেও আমরা অনেক সময় আমাদের জানামতে যে অভিভাবক সফল তার অনুসরণ করি।

ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র থেকে শুরু করে বৃহৎ পরিসরে আমাদের এই আদর্শ, অনুসরণ বা অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আমরা বেশ ধারণা রাখি। হয় তাকে দেখি বাস্তব জীবনে অথবা তাকে বই পড়ে জানি।

অথচ জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে যদি কাউকে অনুসরণ করার মত পাই তবে কতই না ভালো হয়। তাকে দেখে শিখতে পারতাম কিভাবে সন্তানদের বড় করতে হয়, কিভাবে পরিবারের জন্য একজন আদর্শ অভিভাবক হতে হয়। কিভাবে আত্মীয়স্বজনের, পাড়া প্রতিবেশীর , ইয়াতীম মিসকিনের সাহায্য করতে হয়।

তাকে দেখে আমরা শিখতে পারতাম কিভাবে সুন্দর আচরণের অধিকারী হতে হয়, কিভাবে একই সাথে সত্যবাদী, আমানতদার, ন্যায় ব্যবসায়ী হতে হয়, কিভাবে সমাজে ভালবাসা ছড়িয়ে দিতে হয়।

তার কাছে আমরা জানতে পারতাম কিভাবে ক্ষেত্রবিশেষে বিপরীত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হয়। ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য কঠোর, অথচ সত্যের ক্ষেত্রে কোমল।

তাকে দেখলে আমরা দেখতে পেতাম কিভাবে সফল রাজনীতিকের মত – বীরের মত যুদ্ধে শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হয়, আবার প্রয়োজনবোধে সন্ধি করতে হয়। ন্যায়ের প্রয়োজনে কঠোর হওয়া বা ক্ষমা করার ব্যাপারটাও আমরা শিখতে পারি।

এভাবে জীবনের প্রত্যেকটি ব্যাপারে তিনি আমাদের জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তি। তিনি হলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

কিন্তু হায়! তার কথা আমাদের মাথায় আসে নি। হায়! আফসোস! তার ব্যাপারে আমরা তেমন কিছুই জানি না। তার ব্যাপারে আমাদের অনেকের ধারণা তিনিতো আল্লাহর রাসুল। তিনিতো আল্লাহর অনুগ্রহ – সাহায্য পেয়েছেন।

হ্যাঁ। তিনি আল্লাহর অনুগ্রহ – সাহায্য পেয়েছেন। কিন্তু তিনি ছিলেন আমাদের মত রক্তমাংসে গড়া মানুষ। তিনি তার সারাজীবনে যে পরিমাণ কষ্ট করেছেন, তার কিঞ্চিত যদি আমরা জানতাম! ইসলাম যে বানের জলে ভেসে আসে নি তা একটু হলেও উপলব্ধি করতাম।

আমরা তাকে প্রায় ভুলে গেছি! জীবনে এত কিছু পড়েছি, এত সময় পেয়েছি একটিবারও তার জীবনী পড়ার সময় হয় নি। সন্তানদেরকে জানানোর সুযোগ হয় নি!

এই অবসরেও কি আমাদের সময় হয় না এই প্রকৃত আদর্শকে জানার?

পেশায় তড়িৎ প্রকৌশলী। মাঝে মাঝে কিছু লিখতে ইচ্ছা হয়। কিছু লিখি। তারপর আবার মুছে ফেলি। লেখা আর মুছে ফেলার মাঝে কিছু থেকে যায়। সেগুলোর জন্যই এখানে আসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top