কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলি-২

কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলি-২

কোয়ারেন্টাইনে বসে থেকে বিরক্ত হয়ে গেছেন? কাজ পাচ্ছেন না? স্ক্রল করতে করতে ফেসবুককেও বোরিং বানিয়ে ফেলেছেন? মুভি – সিরিজ দেখেও সময় কাটছে না? পরীক্ষার সময় ইউটিউব যেরকম মিষ্টি লাগত ঠিক ওইরকম তিতা হয়ে গেছে? বড়ভাইয়ের দেয়া পোস্টের শেয়ার বা কমেন্ট করেও সময় কাটে না?

একটু থামুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন। সময় কি আসলেই কাটছে না? আজ লকডাউনের কত দিন গেল? পরীক্ষার পরের টার্ম ব্রেক তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। লকডাউন শেষ হয় না। কবে হবে? আপনি জানেন না। এবং আপনি এ বিষয়ে নিশ্চিত যে এই মুহূর্তে এই পৃথিবীর কেউ জানে না।

একটু থামুন। একটু ভাবুন। সময় চলছে। দিন যাচ্ছে। আপনার ক্লাস হয়ত বাড়ছে না। এসএসসি পরীক্ষার্থী হয়ত এখনো পাশ করেন নি। বিসিএস পরীক্ষার্থীর হয়ত পরীক্ষা হয় নি। কিন্তু সময় যাচ্ছে।

আমরা কত বিষয়ে এনালাইসিস করি। সরকার করোনার মোকাবিলায় কি পদক্ষেপ নিল, কি ভুল করল, ট্রাম্প কি করল তা নিয়ে গবেষণা করি আড্ডা জমাই।

একটু থামুন। চিন্তার বিষয়টায় নিজেকে জড়িয়ে নিন। করোনায় বাঁচবেন নাকি মরবেন? কি মনে হয়?

বাঁচুন বা মরুন। এই মুহূর্তে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিয়ে একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন। হাতে সময়ের অভাব নাই।

১। এই মুহূর্তে কি করছেন? কেন করছেন? আগামীকাল কি করবেন? উত্তর যে কোন কিছু হতে পারে – চিত্তবিনোদন থেকে শুরু করে দেশের উপকার।

২। আপনার কাজটার ভবিষ্যৎ কি? কতদিন পর্যন্ত এর ইম্প্যাক্ট থাকতে পারে? উত্তর হতে পারে – ক্ষণিকের জন্য থেকে যুগ-যুগান্তের।

৩। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি চিন্তা করছেন? কতদিনের প্লান করেছেন? ৫ বছর – ১০ বছর কিংবা ৫০ বছর।

৪। আয় উপার্জন কার জন্য করছেন? নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, দেশের জন্য বা সমাজের জন্য – উত্তর হতে পারে যে কোন কিছু।

৫। এরকম আরও কিছু বেসিক প্রশ্ন খুঁজে বের করুন।

প্রশ্ন করুন। নিজের উত্তর দিন। নিজেকে সময় দিন। এতদিন অনেক জ্ঞান অর্জন করেছেন। বিশ- পঁচিশ বছর ধরে জ্ঞানের পিছনে ছুটেছেন। অণু পরমাণু থেকে শুরু করে বিশ্বজগত, কিংবা সমাজব্যবস্থা, রাষ্ট্রনীতি নিয়ে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন।

প্রথমেই আসি ভবিষ্যৎ এর চিন্তার কথায়। পাঁচ – দশ বছর পড়ে নিজেকে কোথায় দেখতে চাই তা নিয়ে অনেকের ধারণা আছে। আরেক্টু দুরে দেখার চেষ্টা করুন না। সফলতার যে সংজ্ঞাটা প্রতি বছর পরিবর্তন করছেন, তার একটা স্থায়ী রূপ দেয়ার চেষ্টা করুন না। অন্তত চেষ্টা তো করবেন।

আয় উপার্জন করছেন বা এর পথ খুঁজছেন। নিজের জন্য বা পরিবারের জন্য। কতদিন স্থায়ী হবে। খুব বেশী হলে নিজের মৃত্যু পর্যন্ত। যাদের জন্য করছেন তারা মনে রাখবে তো? আপনি কি মনে রেখেছেন? নাকি বেঁচে থাকার তাগিদে এগিয়ে চলেছেন।

এই মুহূর্তে যা করছেন তাকে আরেক্টু অর্থবহ করার পথ খুঁজুন না একটু। পাঁচ বছর আগেও এরকম যা করেছেন লঙ টার্মে তার আউটপুট কি? যদি না থাকে কেন আবার একই পথে হাঁটছেন? পাঁচ বছর পিছনে ফিরে দেখে আফসোস করবেন না তো আবার।

একটু গভীরভাবে জীবনটাকে দেখার চেষ্টা করুন এই অবসরে। খুঁজুন মানসিক শান্তির পথ। প্রতিদিন একটু করে চিন্তা করুন। ঠিকই পেয়ে যাবেন।

আজ রমজান মাসের ২৩ তম রাত্রি। শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। এই রাতটিকে হেলায় নষ্ট করবেন না। অজু করে সালাতে দাড়িয়ে যান। কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করুন। কিছু আয়াতের অর্থ দেখুন। জীবনে এত জ্ঞান অর্জন করলেন, এত বই পড়তে পারলেন, এইটুকু পারবেন না? দোয়া করুন বেশী বেশী। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, দেশের জন্য, বিশ্বের জন্য। আরও পড়ুন –

লাইলাতুল ক্বদরের দোআ

اللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ

আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউন, তু’হিব্বুল ‘আফওয়া, ফা’ফু ‘আন্নী

হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাকারী, তুমি মাফ করতেই পছন্দ কর, অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও।

সুনান ইবনে মাজাহ, বই ৩৪ , হাদিস ২৪

দোআ ও যিকির (হিসনুল মুসলিম)

পেশায় তড়িৎ প্রকৌশলী। মাঝে মাঝে কিছু লিখতে ইচ্ছা হয়। কিছু লিখি। তারপর আবার মুছে ফেলি। লেখা আর মুছে ফেলার মাঝে কিছু থেকে যায়। সেগুলোর জন্যই এখানে আসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top